পশ্চিমবঙ্গের কৃষকদের আর্থিকভাবে স্বাবলম্বী করতে রাজ্য সরকারের অন্যতম জনপ্রিয় এবং কল্যাণমুখী উদ্যোগ হলো ‘কৃষক বন্ধু’ (Krishak Bandhu) প্রকল্প। তবে সম্প্রতি বিভিন্ন মাধ্যমে জল্পনা ছড়িয়েছিল যে, কৃষক বন্ধু প্রকল্প হয়তো বন্ধ হতে চলেছে। কিন্তু কৃষকদের জন্য সুখবর! রাজ্যের কৃষি দফতর স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে, কৃষক বন্ধু প্রকল্প কোনোভাবেই বন্ধ হচ্ছে না।
তবে, প্রকল্পের আর্থিক সহায়তা (যা বছরে ১০,০০০ টাকা পর্যন্ত দেওয়া হয়) যাতে শুধুমাত্র প্রকৃত এবং যোগ্য কৃষকদের হাতেই পৌঁছায়, তার জন্য রাজ্য সরকার একটি বড়সড় ভেরিফিকেশন বা যাচাইকরণ প্রক্রিয়া শুরু করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। আপনি যদি এই প্রকল্পের সুবিধাভোগী হয়ে থাকেন, তবে আপনার টাকা নিরবচ্ছিন্নভাবে পেতে এই নতুন নিয়মগুলি জানা অত্যন্ত জরুরি।

কেন এই নতুন ভেরিফিকেশন প্রক্রিয়া?
কৃষকবন্ধু প্রকল্প 2024 | KrishakBandhu Status check 2024
রাজ্য সরকারের মূল লক্ষ্য হলো কৃষক বন্ধু প্রকল্পের সম্পূর্ণ স্বচ্ছতা বজায় রাখা। অনেক ক্ষেত্রে অভিযোগ আসছিল যে, যারা কৃষিকাজের সঙ্গে সরাসরি যুক্ত নন বা আর্থিকভাবে সচ্ছল (যেমন সরকারি চাকরিজীবী বা আয়করদাতা), তারাও এই প্রকল্পের সুবিধা নিচ্ছেন। অযোগ্য উপভোক্তাদের তালিকা থেকে বাদ দিতেই এই ‘ব্যাক-এন্ড ভ্যালিডেশন’ (Backend validation) এবং মাঠ পর্যায়ের ভেরিফিকেশনের কড়া সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
কী কী যাচাই করা হবে এই প্রক্রিয়ায়?
এই নতুন ভেরিফিকেশন প্রক্রিয়ায় বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ তথ্য খুঁটিয়ে দেখা হবে:
১. পিএম কিষাণ (PM-KISAN) ডেটাবেস লিংকিং: কৃষক বন্ধু (নতুন) প্রকল্পের ডেটাবেসের সঙ্গে কেন্দ্রীয় সরকারের পিএম-কিষাণ প্রকল্পের ডেটাবেস মিলিয়ে দেখা হবে। এর ফলে উভয় প্রকল্পের সুবিধাভোগীদের সহজেই চিহ্নিত করা যাবে।
২. সরকারি চাকরি বা পেনশন স্ট্যাটাস: সুবিধাভোগী বা তাঁর স্বামী/স্ত্রী যদি কেন্দ্রীয় সরকার, রাজ্য সরকার, পঞ্চায়েত, পৌরসভা, বা কোনো সরকারি সাহায্যপ্রাপ্ত প্রতিষ্ঠানের স্থায়ী কর্মচারী হিসেবে নিয়মিত বেতন বা পেনশন পান, তবে তাঁদের চিহ্নিত করে পোর্টাল থেকে বাদ দেওয়া হতে পারে।
৩. আয়কর প্রদানকারী (Income Tax Payer): উপভোক্তা আয়কর (Income Tax) দেন কি না, সেটিও প্যান কার্ড ও অন্যান্য তথ্যের মাধ্যমে যাচাই করা হবে।
কারা কৃষক বন্ধুর তালিকা থেকে বাদ পড়তে পারেন?
নতুন নির্দেশিকা অনুযায়ী, বেশ কিছু ব্যক্তিকে ‘কৃষক বন্ধু’ পোর্টালে (Flagged) বা লাল তালিকাভুক্ত করা হবে:
- মৃত ব্যক্তি।
- স্থানান্তরিত বা অনুপস্থিত ভোটার (ASDD)।
- এসআইআর (SIR) ২০২৬ প্রক্রিয়ায় দ্বিতীয় তালিকা বা আইনি নিষ্পত্তির মাধ্যমে বাদ পড়া ব্যক্তিরা।
- যাঁদের নাগরিকত্ব সংশোধনী আইনের (CAA) অধীনে আবেদন বিচারাধীন রয়েছে বা যারা ট্রাইব্যুনালে আপিল করেছেন।
ভেরিফিকেশনের জন্য কী কী ডকুমেন্টস (Documents) লাগবে?
মাঠ পর্যায়ে যাচাইয়ের সময় কৃষকদের একটি নির্দিষ্ট ফর্ম পূরণ করতে হবে। ফর্মের সঙ্গে নিম্নলিখিত নথিপত্রগুলো জমা দেওয়া বাধ্যতামূলক:
- উপভোক্তা এবং তাঁর স্বামী/স্ত্রীর আধার কার্ডের ফটোকপি।
- উপভোক্তা এবং তাঁর স্বামী/স্ত্রীর ভোটার কার্ডের (EPIC) ফটোকপি।
- জমির সাম্প্রতিক রেকর্ডের (ROR/ পর্চা) ফটোকপি।
- উপভোক্তা এবং তাঁর স্বামী/স্ত্রীর ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টের পাসবুকের ফটোকপি।
বিশেষ দ্রষ্টব্য: সঠিকভাবে ফর্ম এবং নথিপত্র জমা দেওয়ার পর কৃষকদের একটি ‘ইউনিক সিরিয়াল নম্বর’ (Unique Serial Number) দেওয়া হবে। এটি রসিদ হিসেবে নিজের কাছে যত্ন করে রেখে দেবেন।
কীভাবে এবং কবে হবে এই কাজ?
জেলাশাসক (DM) এবং ব্লক উন্নয়ন আধিকারিকদের (BDO) সার্বিক তত্ত্বাবধানে এই কাজ পরিচালিত হবে। ব্লক স্তরে অ্যাসিস্ট্যান্ট ডিরেক্টর অফ এগ্রিকালচার (ADA) এবং সম্প্রসারণ আধিকারিকরা আবেদনগুলি যাচাই করবেন এবং চূড়ান্ত অনুমোদন দেবেন। প্রশাসন সূত্রে খবর, কাজ শুরুর তারিখ থেকে মাত্র চার সপ্তাহের মধ্যে এই বিশাল ভেরিফিকেশন প্রক্রিয়া সম্পন্ন করার লক্ষ্যমাত্রা নেওয়া হয়েছে। এছাড়া আধার ও NPCI ভ্যালিডেশনও ব্যাক-এন্ড থেকে করা হবে।
পরিশেষে…..
প্রকৃত কৃষকদের এই ভেরিফিকেশন নিয়ে ঘাবড়ানোর বা ভয়ের কোনো কারণ নেই। আপনার যদি সমস্ত নথিপত্র সঠিক থাকে, ব্যাঙ্কের সঙ্গে আধার লিঙ্ক করা থাকে এবং জমির রেকর্ড ঠিক থাকে, তবে আপনার প্রাপ্য টাকা কেউ আটকাতে পারবে না। সরকার কেবল ভুয়ো উপভোক্তাদের আটকাতেই এই পদক্ষেপ নিয়েছে।
কৃষক বন্ধু প্রকল্প সম্পর্কিত ফর্ম জমা দেওয়ার তারিখ এবং আরও গুরুত্বপূর্ণ লাইভ আপডেট সবার আগে পেতে নিয়মিত চোখ রাখুন আমাদের ওয়েবসাইট kisokbondhu.co.in -এ।
আপনার কি কৃষক বন্ধু ভেরিফিকেশন নিয়ে কোনো প্রশ্ন আছে? নিচের কমেন্ট বক্সে আমাদের জানান, আমরা উত্তর দেওয়ার চেষ্টা করব!