পশ্চিমবঙ্গ রাজ্য সরকারের ২০২৬ সালের অন্তর্বর্তীকালীন বাজেটে বেকার যুবক-যুবতীদের জন্য এক ঐতিহাসিক ঘোষণা করা হয়েছে। মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের উদ্যোগে চালু হচ্ছে “বাংলার যুব সাথী” (Banglar Yuva Sathi) প্রকল্প। এই প্রকল্পের মাধ্যমে রাজ্যের শিক্ষিত বেকারদের প্রতি মাসে ১,৫০০ টাকা করে আর্থিক সহায়তা দেওয়া হবে।
আপনি কি একজন চাকরিপ্রার্থী? আপনি কি মাধ্যমিক পাশ করে ঘরে বসে আছেন? তাহলে এই প্রকল্পটি আপনার জীবনের একটি গুরুত্বপূর্ণ মোড় হতে পারে। আজকের এই প্রতিবেদনে আমরা এই প্রকল্পের খুটিনাটি আলোচনা করব।
যুব সাথী (Yuva Sathi) প্রকল্প কী?
কৃষকবন্ধু প্রকল্প 2024 | KrishakBandhu Status check 2024
- 0.1 যুব সাথী (Yuva Sathi) প্রকল্প কী?
- 0.2 কারা আবেদন করতে পারবেন? (Eligibility Criteria)
- 0.3 আবেদনের গুরুত্বপূর্ণ তারিখ ও ক্যাম্প (Special Camps)
- 0.4 আবেদন করতে কী কী ডকুমেন্টস লাগবে?
- 0.5 কীভাবে আবেদন করবেন? (How to Apply)
- 1 যুব সাথী প্রকল্পে অনলাইনে আবেদন করবেন কী ভাবে?
- 2 কারা এই প্রকল্পের সুবিধা পাবেন না?
রাজ্যের শিক্ষিত কিন্তু কর্মহীন যুবক-যুবতীদের চাকরির প্রস্তুতি বা স্কিল ডেভেলপমেন্টের জন্য আর্থিক সাহায্য করাই এই প্রকল্পের মূল লক্ষ্য। এর আগে রাজ্যে ‘যুবশ্রী’ প্রকল্প ছিল, তবে নতুন এই ‘যুব সাথী’ প্রকল্পটি আরও বড় আকারে এবং নতুন নিয়মে কার্যকর করা হচ্ছে।
কারা আবেদন করতে পারবেন? (Eligibility Criteria)
এই প্রকল্পের সুবিধা পেতে গেলে আপনাকে নিচের শর্তগুলি পূরণ করতে হবে:
- বাসস্থান: আবেদনকারীকে অবশ্যই পশ্চিমবঙ্গের স্থায়ী বাসিন্দা হতে হবে।
- শিক্ষাগত যোগ্যতা: ন্যূনতম মাধ্যমিক (Class 10) বা তার সমতুল্য পরীক্ষায় পাশ করতে হবে।
- বয়স সীমা: আবেদনকারীর বয়স অবশ্যই ২১ থেকে ৪০ বছরের মধ্যে হতে হবে।
- বেকারত্ব: আবেদনকারীকে বর্তমানে কোনো সরকারি বা স্থায়ী বেসরকারি চাকরির সাথে যুক্ত থাকা চলবে না।
বিশেষ দ্রষ্টব্য: মুখ্যমন্ত্রী জানিয়েছেন যে, যারা স্বামী বিবেকানন্দ মেরিট স্কলারশিপ বা মেধাশ্রী/শিক্ষাশ্রী পাচ্ছেন, তারাও এই যুব সাথী প্রকল্পের সুবিধা পাবেন। তবে লক্ষ্মীর ভাণ্ডার বা কৃষক বন্ধুর মতো ভাতার আওতায় থাকা ব্যক্তিরা এটি পাবেন না।

আবেদনের গুরুত্বপূর্ণ তারিখ ও ক্যাম্প (Special Camps)
অনলাইন সার্ভারের জটিলতা এড়াতে সরকার সরাসরি অফলাইন ক্যাম্পের মাধ্যমে আবেদন গ্রহণ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।
- ক্যাম্পের তারিখ: ১৫ই ফেব্রুয়ারি থেকে ২৬শে ফেব্রুয়ারি ২০২৬।
- সময়: প্রতিদিন সকাল ১০টা থেকে বিকেল ৫টা (ছুটির দিন বাদে)।
- স্থান: পশ্চিমবঙ্গের প্রতিটি বিধানসভা কেন্দ্রে (মোট ২৯৪টি কেন্দ্রে) এই ক্যাম্পগুলি বসবে।
- প্রকল্প শুরু: আগামী ১লা এপ্রিল ২০২৬ থেকে এই প্রকল্পের টাকা সরাসরি ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে ঢোকা শুরু হবে।
আবেদন করতে কী কী ডকুমেন্টস লাগবে?
ক্যাম্পে যাওয়ার সময় নিচের নথিগুলি (Original ও Xerox) সাথে রাখা বাধ্যতামূলক:
- আধার কার্ড ও ভোটার কার্ড (ঠিকানার প্রমাণ হিসেবে)।
- মাধ্যমিক পাশের রেজাল্ট বা সার্টিফিকেট (বয়স ও যোগ্যতার প্রমাণ)।
- রঙিন পাসপোর্ট সাইজ ছবি।
- নিজস্ব ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট ডিটেইলস (পাসবইয়ের প্রথম পাতা)।
- বেকারত্ব বা আন-এমপ্লয়মেন্ট সার্টিফিকেট (প্রয়োজন হতে পারে)।

কীভাবে আবেদন করবেন? (How to Apply)
১. প্রথমে আপনার নিকটবর্তী বিধানসভা ভিত্তিক ক্যাম্পে উপস্থিত হন।
২. সেখান থেকে যুব সাথী আবেদনের ফর্ম (Annexure-I) সংগ্রহ করুন।
৩. সঠিক তথ্য দিয়ে ফর্মটি পূরণ করুন এবং প্রয়োজনীয় ডকুমেন্টস অ্যাটাচ করুন।
৪. ফর্ম জমা দেওয়ার পর একটি অ্যাকনলেজমেন্ট স্লিপ (Acknowledgement Receipt) অবশ্যই সংগ্রহ করবেন। এটি ভবিষ্যতে স্ট্যাটাস চেক করতে কাজে লাগবে।
যুব সাথী প্রকল্পে অনলাইনে আবেদন করবেন কী ভাবে?
এই যুব সাথী প্রকল্প অনলাইন এর মধ্যমে ও আবেদন করতে পারবেন। এখনই কোনও পোর্টাল চালু করা হয়নি। তবে আগামী ১৫ ফেব্রুয়ারি থেকে https://sportsandyouth.wb.gov.in/ ওয়েবসাইটে এই প্রকল্পের শুধুমাত্র আবেদনপত্র পাওয়া যাবে। যুব সাথী প্রকল্পের নাম করে ইতিমধ্যে প্রচুর ভুয়ো ওয়েবসাইট বা পোর্টাল তৈরি হয়েছে, তাই সেই সমস্ত ভুও বা fake পোর্টালগুলি প্রশাসনের তরফে থেকে বিরত থাকার আবেদন জানানো হয়েছে ।
সুবিধা কতদিন পাওয়া যাবে?
একজন সুবিধাভোগী টানা ৫ বছর পর্যন্ত এই মাসিক ১৫০০ টাকা পেতে পারেন। তবে এর মধ্যে যদি তিনি কোনো চাকরি পেয়ে যান, তবে নিয়ম অনুযায়ী তাকে এই ভাতা বন্ধ করতে হবে। ৫ বছর পরও যদি কেউ চাকরি না পান, তবে সরকার বিষয়টি পুনরায় বিবেচনা করে দেখতে পারে।
কারা এই প্রকল্পের সুবিধা পাবেন না?
সরকারি অথবা বেসরকারি ক্ষেত্রে কর্মরতরা এই প্রকল্পের আওতাভুক্ত হতে পারবেন না। এ ছাড়া রাজ্য সরকারের অন্য কোনও সামাজিক সুরক্ষা প্রকল্পের উপভোক্তারা, যারা অন্য কিছু প্রকল্পে সুবিধা পাচ্ছেন, তারাও এই প্রকল্পের সুবিধা পাবেন না। অর্থাৎ কৃষক ভাতা, লক্ষ্মীর ভাণ্ডার, , যাঁরা পেয়ে থাকেন, তাঁরা এই প্রকল্পের সুবিধা পাবেন না।
উপসংহার
বাংলার যুব সাথী ২০২৬ প্রকল্প রাজ্যের লক্ষ লক্ষ বেকার যুবক-যুবতীর জন্য একটি আশার আলো। আপনি যদি যোগ্য হন, তবে দেরি না করে আপনার এলাকার ক্যাম্পে গিয়ে দ্রুত নাম নথিভুক্ত করুন। এই প্রকল্পের প্রদত্ত টাকা সরাসরি উপভোক্তার ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে পাঠানো হবে।
আপনার বিধানসভাভিত্তিক ক্যাম্পগুলি থেকে আবেদন পত্র সংগ্রহ করার পরে যথাযথ নথি দিয়ে আবেদন পত্র জমা করতে পারবেন। আবেদন গ্রহণ হওয়ার পরে উপভোক্তার মোবাইল নম্বরে এই সংক্রান্ত এসএমএস (SMS) পাঠিয়ে সুনিশ্চিত করে দেওয়া হবে। আপনাদের জ্ঞাতব্যের জন্য জানিয়ে আরেকবার জানিয়ে দেওয়া হল, উপভোক্তারা কোনও কর্মক্ষেত্রে যুক্ত না হওয়া পর্যন্ত সর্বোচ্চ পাঁচ বছর (5 YEAR) এই প্রকল্পের সুবিধা পাবেন।
সরকারি প্রকল্পের নিয়মিত আপডেট পেতে আমাদের ওয়েবসাইট kisokbondhu.co.in নিয়মিত ভিজিট করুন।